ভাল ব্যবস্থাপনা নিলে ছোট বড় সব ধরনের পুকুরে কৈ মাছের চাষ করা যায়। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্গাকার পুকুরের চেয়ে আয়তাকার পুকুরে কৈ চাষের ফলন বেশি হয়। ২ ধাপে এই মাছের চাষ করা যায়।
একটি পুকুর ব্যবহার করে বা সরাসরি এবং দু'টি পুকুর ব্যবহার করে বা নার্সিং করে।
একটি পুকুর ব্যবহার পদ্ধতি : একটি পুকুর ব্যবহার করে বা সরাসরি প্রায় এক ইঞ্চি সাইজের কৈ মাছের পোনা ছাড়লে ওই পুকুরের ২য় পদ্ধতির চেয়ে কমপক্ষে ১০ দিন আগে বাজারজাত করা যায়। এ ক্ষেত্রে পোনার মজুদ থেকে ২০% পোনা বাদ দিয়ে পোনা মজুদ ধরতে হবে। যেমন সরাসরি একটি পুকুরে ৫০ হাজার পোনা ছাড়ার পর ওই পুকুরের মজুদ ধরতে হবে ৪০ হাজার।
২য় পুকুর ব্যবহার পদ্ধতি : ২য় পুকুর ব্যবহার করেও এই মাছের চাষ করা যায়। সে ক্ষেত্রে প্রথমে একটি ছোট পুকুরে প্রায় এক ইঞ্চি সাইজের কৈ মাছের পোনা ছেড়ে নার্সিং করতে হবে প্রায় ২০ দিন। এক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে প্রায় ২ হাজার পোনা মজুদ করা যাবে। প্রায় ২০ দিন নার্সিং করার পর ২য় পুকুরে স্থনানত্মর করতে হবে। কৈ মাছের পোনা স্থানানত্মর করার সময় কিছু বিশেষ দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন মেঘলা আকাশে কৈ মাছের পোনা স্থনানত্মর করা উচিৎ হবে না। রৌদ্রজ্জ্বল আকাশে বেলা ১১ টার দিকে কৈ মাছের পোনা স্থানানত্মর করতে হবে। আবার বেলা ১২ টার পর স্থনানত্মর করা ঠিক হবে না। ১১টার আগে পোনা স্থানানত্মর করলে কিছু বোঝার আগেই পোনা হঠাৎ করে মারা যেতে পারে। আবার বেলা ১২ টার পরে পোনা স্থানানত্মর করলে অতিরিক্ত রোদের তাপে কৈ মাছের পোনা সহজেই রোগে আক্রানত্ম হতে পারে।
পুকুর নির্বাচন : সাধারণত দো-অাঁশ, এটেল দো-অাঁশ এমনকি বেলে দো-অাঁশ মাটির পুকুর এবং যে সমসত্ম পুকুরে বন্যার পানি ওঠে না, পানির ধারণ ক্ষমতা বেশি সেই সমসত্ম পুকুরে কৈ মাছ চাষের উপযোগী। আয়তাকার পুকুরের আয়তন ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের হলে ভাল। পানি পরিবর্তনের সুবিধা থাকতে হবে। পুকুরের গভীরতা ৪ থেকে ৫ ফুট হলে ভাল। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে ৩ থেকে ৪ ফুট গভীরতার পুকুরেও এ মাছ চাষ করা যায়। সেক্ষেত্রে মাছের মজুদ ঘনত্ব একটু কম দিতে হবে।
পুকুর তৈরি : নতুন ও পুরাতন উভয় ধরনের পুকুরে কৈ মাছ চাষ করা যায়। নতুন পুকুরের তলায় শতাংশ প্রতি ১০ কেজি গোবর ছিটিয়ে তারপর হালকা চাষ দিতে হবে। তারপর অল্প একটু পানি দিয়ে ভাল করে মই দিতে হবে। পুরাতন পুকুর হলে প্রথমেই পুকুরের পানি সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে। তারপর সঁ্যাতসঁ্যাতে থাকা অবস্থায় শতাংশ প্রতি এক কেজি চুন পানির সাথে গুলে ছিটিয়ে দিয়ে ভাল করে মই দিতে হবে। এ সময় পুকুর শুকাতে দিতে হবে। পুকুরের তলার মাটি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেলে পুকুর চাষ করার উপযোগী হয়ে উঠবে। এ ছাড়া সারাবছর পানি থাকে এমন পুকুরেও কৈ মাছের চাষ করা যাবে। এক্ষেত্রে পুকুরে বিষটোপ বা রটেনন পাউডার দিয়ে অবাঞ্চিত বা রাক্ষুসে মাছ নিধন করতে হবে। তারপর শতাংশপ্রতি ১কেজি চুন পানির সাথে মিশিয়ে সমসত্ম পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। সারাবছর অতিরিক্ত কাদা-পানি থাকে এমন পুকুরে কৈ মাছের চাষ না করাই ভাল। উলেস্নখিত পদ্ধতি অনুসরণ করে পুকুর তৈরির কাজ শেষ করতে হবে। এরপর পুকুরের পাড়ের উপর দিয়ে জাল দিয়ে ঘের দিতে হবে যাতে পুকুরের ভেতর সাপ, ব্যাঙ ঢুকতে পারে না। এ ছাড়াও মার্চ এপ্রিলে কৈ মাছ মজুদ করলে পুকুর থেকে মাছ উঠে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। মে মাস বা তারপরে কৈ মাছ মজুদ করলে পরবতর্ী ফেব্রম্নয়ারি পর্যনত্ম পুকুর থেকে উঠে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে না। উলেস্নখিত পদ্ধতি অনুসরণের পর পুকুরে ২ ফুট পানি দিয়ে পোনা মজুদ করতে হবে।
মজুদ ঘনত্ব : প্রতি শতাংশে ৫০০ থেকে এক হাজারটি কৈ মাছ মজুদ করা যায়। যদিও কয়েক বছর আগে মজুদ ঘনত্ব শতাংশে ৩০০ দিয়ে শুরম্ন হয়েছিল। পানি পরিবর্তনের সুযোগের উপর মজুদ ঘনত্ব নির্ভরশীল। পানি পরিবর্তনের সুযোগ যত বেশি থাকবে কৈ মাছের মজুদ তত বেশি দেয়া যাবে। তবে মাছের মজুদ ঘনত্ব শতাংশে হাজারের বেশি দেয়া ঠিক নয়। (চলবে)
এ. কে এম. নূরম্নল হক
ব্রহ্মপুত্র ফিস সীড কমপেস্নক্স (হ্যাসারি)
চরপুলিয়ামারী, শম্ভুগঞ্জ, ময়মনসিংহ
বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০১০
থাই কৈ : প্রজনন ও চাষ_৪
রবিবার, ৭ মার্চ, ২০১০
পুকুরে দেশি মাগুরের চাষ
দেশি মাগুর একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ ও সুস্বাদু মাছ। রোগীর পথ্য হিসাবে মাছটির চাহিদা রয়েছে অনেক। এক সময় এই মাছটিকে সহজেই প্রাকৃতিক জলাশয়ে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন দেশি মাগুর আর তেমন পাওয়া যায় না। তাই মাছটি প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিল। তবে আশার কথা হল দেশের মাছ চাষিরা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে এই মাছটিকে ফিরিয়ে এনেছে।
ডিম সংগ্রহের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা : ডিম সংগ্রহের পর ডিমগুলোকে সিস্টার্নে নিয়ে যেতে হবে। সিস্টার্নের আকার আয়তকার হতে হবে। দৈর্ঘ্যে ৮ ফুট এবং প্রস্থে ৪ ফুট হলে ভাল। সিস্টার্নের পানির উচ্চতা ৩ ইঞ্চির বেশি দেয়া উচিৎ নয়। ডিমগুলোকে পাখির পালক দিয়ে আস-ে আস-ে সিস্টার্নে বিছিয়ে দিতে হবে। মাগুরের ডিম আঠালো আর সেজন্য ডিমগুলোকে এমনভাবে বিছাতে হবে যেন একটি ডিম আরেকটি ডিমের সাথে লেগে না যায়।
তারপর আধা ইঞ্চি পি.ভি.সি. পাইপ ছিদ্র করে পানির ঝর্ণার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দেশি মাগুরের ডিম ফুটতে কার্প জাতীয় মাছের চেয়ে সময় বেশি লাগে। তাপমাত্রা ভেদে ৩০ থেকে ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এই দর্ীঘ সময়ে মাগুর মাছের ডিমে ফাঙ্গাস আক্রমণ করতে পারে। ডিমে ফাঙ্গাস আক্রমণ করার সাথে সাথে ওই ডিমগুলোকে সিস্টার্ন থেকে সাইফনের মাধ্যমে ফেলে দিতে হবে। অন্যথায় অত্যন- দ্রুত গতিতে এই ফাঙ্গাস এক ডিম হতে অন্য ডিমে ছড়িয়ে গিয়ে সমস- ডিমকে নষ্ট করে ফেলতে পারে। সেজন্য ডিমগুলোকে সিস্টার্নে ঘন করে দেয়া যাবে না। যথাসম্ভব পাতলা করে দিতে হবে। এই সময় ঠাণ্ডা পানির ঝর্ণার সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রাখতে হবে। পানির তাপমাত্রা ২৭/২৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট রাখতে হবে। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে_ পানির তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি হলে দেশি মাগুরের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়েও পরে বাচ্চা মারা যায়। এভাবে ডিম থেকে বাচ্চা বের হওয়ার পর বাচ্চাগুলো আপনা আপনি সিস্টার্নের কোণায় যেতে থাকবে। সিস্টার্নের কোণায় অবস্থান নিলেই সাধারণত বাচ্চার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে যায়। বাচ্চাগুলো কোণায় অবস্থান নিলে সিস্টার্নের মাঝখানের ময়লা, ধূলাবালি সাইফনের মাধ্যমে পরিষ্কার করে দিতে হবে। এভাবে বাচ্চার বয়স ৭২ ঘণ্টা পার হলেই এদেরকে কৃত্রিম খাবার দিতে হবে। এই সময় খাবার হিসাবে ছোট জু-প্ল্যাংকটন জীবিত অবস্থায় সিস্টার্নে দিতে হবে। এই জু-প্ল্যাংকটন পুকুর থেকে জীবিত অবস্থায় ধরে সংগ্রহ করে তারপর সিস্টার্নে দিতে হবে। সিস্টার্নে দু'দিন এই খাবার খাওয়ানোর পর নার্সারি পুকুরে স্থানান-র করতে হবে।
রেনু উৎপাদনকালীন সতর্কতা : ১. দেশি মাগুরের ব্রুডমাছ অবশ্যই পরিপক্ক হতে হবে। অন্যথায় সমস- কাজই বিফলে যাবে।
২. চাপ প্রয়োগে ডিম সংগ্রহের সময় খুব বেশি চাপ দিয়ে ডিম বের করা উচিৎ নয়। তাতে ডিম ভেঙ্গে যেতে পারে।
৩. সিস্টার্নে ডিম যেন অধিক ঘনত্বে দেয়া না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। অর্থাৎ একটি ডিম আরেকটি ডিমের সাথে যেন লেগে না যায়।
৪. সিস্টার্নের ঠাণ্ডা পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। পানির তাপমাত্রা ২৭/২৮ ডিগ্রির বেশি হলে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলেও মারা যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।
এভাবে চাহিদা অনুযায়ী যে কেউ দেশি মাগুরের রেনু উৎপাদন করতে পারেন। (শেষ)
_এ.কে.এম. নূরুল হক
ব্রহ্মপুত্র ফিস সিড কমপ্লেক্স (হ্যাচারি)
চর পুলিয়ামারী,শম্ভুগঞ্জ, ময়মনসিংহ
থাই কৈ : প্রজনন ও চাষ_১
২০০৩ সালের কথা। দেশে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে পাবদা মাছের পোনা করলাম কিন্তু বাজারজাত করতে পারছিলাম না। অনেকটা প্রচার ও বাজারজাতের উদ্দেশ্যে মৎস্যপক্ষে অনুষ্ঠিত ঢাকায় কেন্দ্রীয় মৎস্য মেলায় স্টল নিলাম। ব্যাপক সাড়া পড়ল আমার স্টলে। তাৎক্ষণিক অনেক অর্ডার পেলাম। ফলশ্রম্নতিতে আমার পাবদা মাছের বাজারজাতের ব্যবস্থা হয়ে গেল।
মেলায় গিয়ে আরেকটা জিনিসের খোঁজ পেলাম। একটা স্টলে থাই কৈ মাছের পোনা বিক্রি হতে দেখে তাৎক্ষণিক কিছু পোনা কিনে চাষ শুরম্ন করলাম। পাশাপাশি আমাদের দেশে এই কৈ মাছের কে কে চাষ করছে তার একটা তথ্য তাদের কাছ থেকে নিলাম। সবকিছু জেনে যা মনে হল তাতে থাই কৈ চাষ না করাই ভাল।
থাইল্যান্ড থেকে এক বছর আগে আমাদের দেশে আসে এই কৈ মাছ। যারা প্রথম এনেছিল দ্বিতীয় বার তারা পোনা আমদানি করার সাহস পায়নি। আমি সবকিছু শুনে বুঝতে পারলাম এই মাছ চাষে প্রতিবন্ধকতা কোথায়। থাই কৈ চাষে কিছু কারিগরী ত্রম্নটির কারণেই এমনটা হচ্ছে। থাইল্যান্ডের আবহাওয়া আর আমাদের দেশের আবহাওয়া শীতের ২ মাস বাদে প্রায় একই রকম। তার পরেও আমাদের দেশে এই মাছটি কেন বড় হচ্ছে না? থাইল্যান্ডে এই মাছ ১২০ দিনে বাজারজাত হলেও আমাদের দেশে হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে আমি যা জানাতে পারলাম তা হল_
১. আমাদের দেশে কৈ মাছ আমদানি করা হত সেপ্টেম্বরের দিকে। এর এক মাস বা দেড় মাসের মধ্যেই শীত এসে যেত। শীতের পরে এই মাছটি আর তেমন না বাড়ার কারণে সবার মাঝে এই মাছ চাষে অনিহা দেখা দেয়।
২. পোনার উচ্চমূল্য এবং ব্যাপক মৃতু্যহার এর আরেকটি কারণ। যেমন প্রতিটি পোনার মূল্য ৩ টাকা করে আনার পর যদি ৫০% পোনা মারা যায় তাহলে প্রতিটি পোনার মূল্য দাঁড়ায় ৬ টাকা। মৃত্যহার যদি একটু বেশি হয় তাহলে পোনার মূল্য আরো অনেক বেড়ে যায়।
৩. মানসম্মত খাবার তৈরি করতে না পারা আরেকটি কারণ।। কৈ মাছের খাবারে কার্প বা পাঙ্গাস মাছের খাবারের চেয়ে আরো বেশি পরিমাণ প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। এ সময় এ ধরনের খাবার কোন মাছের কোম্পানি তৈরি করত না। এই সব মাথায় রেখেই আমি আমার থাই কৈ মাছের প্রজনন ও চাষের মিশন শুরম্ন করলাম। ২০০৩ সালের শেষ দিকের কথা। তথ্য মতে নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার থেকে এক ব্র্যাক অফিসারের সহায়তায় আরো কিছু কৈ মাছ নিয়ে এলাম।
২০০৪ সাল। আমার মোট মজুদ মাছের মধ্যে দেখা গেল স্ত্রী মাছের চেয়ে পুরম্নষ মাছের সংখ্যা একবারেই কম। যার কারণে ব্যাপক উৎপাদনের আশায় প্রথমেই হোঁচট খেলাম। এরপর আবার শুরম্ন করলাম মাছ আনা। আমাদের ময়মনসিংহের ত্রিশালেও অনেক কৈ মাছ ছিল।
আবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যোগাযোগ করে প্রায় মণখানেক কৈ মাছের ব্রম্নড নিয়ে আসা হল। এ ব্যাপারে সেই খামারের মালিক কৃষিবিদ জনাব বাবুল খান (নূরম্নল হক খান) এর সহযোগিতা মনে রাখার মত। তিনি আমার খামারে তেলাপিয়ার পোনা নিতে এসে নিজে সাথে করে প্রায় ৪০ কেজি কৈ মাছের ব্রম্নড দিয়ে গেলেন। তারপর থেকেই কৈ মাছের পোনা উৎপাদনে লেগে গেলাম। ব্যাপক সাফল্যও পেলাম। এরপর আমিই বাংলাদেশে প্রথম কৈ মাছের প্রজনন শুরম্ন করলাম।
প্রথমে রেনু তারপর পোনা এবং সব শেষে চাষ। এক্ষেত্রে ২০০০ সালে উৎপাদন করা আমাদের দেশীয় কৈ মাছের প্রজননের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালাম। আগের অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখেই থাই কৈ চাষে এগিয়ে যেতে লাগলাম। প্রথমে পোনার কীভাবে মৃত্যহার কম হয় সেটা বের করলাম। তারপর খাদ্যের প্রোটিনের হার ৩৫% রেখে খাবার বানানোর পরামর্শ দিয়ে খামারিদের কাছে পোনা বিক্রি শুরম্ন করলাম। ফলাফল আসতে শুরম্ন হল। খামারিরা ব্যাপক লাভের মুখ দেখলেন এবং আমাকে উৎসাহিত করলেন। আমিও অনুপ্রাণিত হয়ে এটাকে আরো কীভাবে সমপ্রসারণ করা যায় চিনত্মা করতে লাগলাম। প্রথমে সৌদি বাংলা ফিড কোম্পানি আমার বানানো খাদ্যের ফলাফলের ভিত্তিতে খাদ্য বানানো শুরম্ন করল। খামারিরা আরো অনুপ্রাণিত হল। (চলবে)
_এ. কে. এম নূরম্নল হক
ব্রহ্মপুত্র ফিস সিড কমপেস্নক্স (হ্যাচারি, ময়মনসিংহ
থাই কৈ : প্রজনন ও চাষ_৩
নার্সারি ব্যবস্থাপনা : নার্সারি পুকুরের ব্যবস্থাপনা ২টি ধাপে করা যায়। প্রথমটি হল ১টি পুকুর ব্যবহার করে আর দ্বিতীয়টি হল ২টি পুকুর ব্যবহার করে। ১টি পুকুর ব্যবহার করে পোনা উৎপাদন করলে পোনা ছোট বড় হয়ে যায় এবং চাষের ক্ষেত্রে নানাবিধ অসুবিধা হয়। ২টি পুকুর ব্যবহার করলে পোনা তেমন ছোট বড় হয় না। সে জন্য ২টি পুকুর ব্যবহার করাই ভাল। নার্সারি পুকুর আয়তাকার হলে ভাল হয়। এক্ষেত্রে ২য় পদ্ধতির কথা উলেস্নখ থাকছে অর্থাৎ ২টি পুকুর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। প্রথম পুকুরের আয়তন হবে ১০/১৫ শতাংশ এবং ২য় পুকুরের আয়তন হবে ৪০/৫০ শতাংশ। প্রথম পুকুরের পানি সেচ দিয়ে শুকিয়ে শতাংশ প্রতি ১ কেজি চুন পানির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে সমসত্ম পুকুরে ছিটিয়ে দিয়ে শুকাতে হবে। পুকুরের তলা শুকানোর পর পুকুরের পাড়ের চারপাশে জাল দিয়ে ঘিরে শ্যাল মেশিন বা গভীর নলকূপের সাহায্যে ৩ ফুট পরিষ্কার পানি দিতে হবে। পানি দেয়ার পর পরই শতাংশ প্রতি ১০০ গ্রাম আটা পানির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। এর ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাণী পস্ন্যাংটন জন্মাবে যা কৈ মাছে রেনুর জন্য অত্যনত্ম প্রয়োজনীয়। আটা দেয়ার ২ দিন পর পুকুরে সন্ধ্যায় ০.২ পি.পি.এম হারে সুমিথিয়ন পানির সাথে মিশিয়ে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। এর ২দিন পর রেনু মজুত করতে হবে। ১৫/২০ শতাংশের নার্সারি পুকুরের জন্য ১০০/১৫০ জোড়া কৈ মাছের ব্রম্নড থেকে উৎপাদিত রেনু পুকুরে ছাড়া উচিৎ। এ পুকুরে ৭/৮ দিন খাওয়ানোর পর রেনুগুলো ধানীপোনাতে রূপানত্মরিত হয়ে যাবে। তখন এই ধানীপোনাকে গস্নাস নাইলন কাপড়ের তৈরি হাপা দিয়ে কাটাই করে ২য় পুকুরে স্থানানত্মরিত করতে হবে। এভাবে আরো ১০ দিন খাওয়ানোর পর ধানীপোনাগুলো চারা পোনাতে পরিণত হবে যা পরবতর্ীতে চাষের পুকুরে ছাড়তে হবে।
খাবার প্রয়োগ : রেনু ছাড়ার পর থেকেই পুকুরে সম্পূরক খাবার প্রয়োগ করতে হবে। খাবার হিসেবে ২০ শতাংশের একটি পুকুরে প্রতিবারে ১০টি হাঁসের ডিম সিদ্ধ করে ডিমের সাদা অংশসহ ভালভাবে বেস্নন্ডারে মিহি করে গস্নাস নাইলনের কাপড় দিয়ে ছেঁকে পানির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে সমসত্ম পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।
এভাবে দৈনিক ২/৩ বার খাবার প্রয়োগ করতে হবে। ২ দিন খাবার দেয়ার পর ৩য় দিন থেকে ওই পরিমাণ ডিমের সাথে আরো আধাকেজি আটা সিদ্ধ করে ওই ডিমের সাথে মিশিয়ে পুকুরে দিনে ২/৩ বার প্রয়োগ করতে হবে। আটা প্রয়োগে রেনুমাছ খাওয়ার পাশাপাশি অধিক পরিমাণে প্রাণী পস্ন্যাংকটনের জন্ম হবে যা রেনুপোনার জন্য খুবই দরকারী। এভাবে ৫/৬ দিন খাওয়ানোর পর রেনুপোনাগুলো ধানীপোনাতে পরিণত হবে যা পরবতর্ীতে কাটাই পুকুরে অর্থাৎ ২য় পুকুরে স্থানানত্মরিত করতে হবে। এই পুকুরে ধানীপোনার খাবার হিসাবে বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি নার্সারি খাবার খাওয়াতে হবে। খাবারে প্রয়োগ পদ্ধতিতে নার্সারি খাবারকে ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে তারপর পোনাকে খাওয়ানো উচিৎ। খাবারের পরিমাণ হবে প্রতি ৪ লক্ষ মাছের জন্য ১০ কেজি খাবার। এভাবে ৮/১০দিন খাওয়ানোর পর পোনাগুলো এক থেকে দেড় ইঞ্চি সাইজের হলে পরবতর্ীতে চাষের পুকুরে ছাড়তে হবে। (চলবে) _এ. কে. এম নূরম্নল হক
ব্রহ্মপুত্র ফিস সিড কমপেস্নক্স (হ্যাচারি)
গ্রাম-চরপুলিয়ামারী,শম্ভুগঞ্জ, ময়মনসিংহ
শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০১০
থাই কৈ : প্রজনন ও চাষ_২
প্রজনন : চাষাবাদের জন্য ফেব্রম্নয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুলাই মাস পর্যনত্ম কৈ মাছের প্রজননের জন্য উপযুক্ত সময়। এ ছাড়াও কৈ মাছ যে কেউ ইচ্ছা করলে প্রায় সারা বছরই প্রজনন করাতে পারে। সঠিক পরিচর্যা করলে প্রায় সারা বছরই পেটভর্তি ডিম থাকে যা দেখে স্ত্রী কৈ মাছ সনাক্ত করা যায়। এ ছাড়াও স্ত্রী কৈ মাছ পুরম্নষ কৈ মাছের তুলনায় অনেক বেশি বড় হয়ে থাকে। পুরম্নষ কৈ মাছকে সনাক্তের জন্য প্রজনন মৌসুমে পেটে হালকা চাপ দিলেই সাদা রঙের শুক্রাণু বের হয়ে আসে।
প্রজনন মৌসুমে স্ত্রী ও পুরম্নষ মাছকে ১টি ইনঞ্জেকশন দিলেই চলে। ইনঞ্জেকশন দিতে হবে পি.জি. দিয়ে। স্ত্রী মাছের জন্য মাত্রা হবে ৬ থেকে ৮ মিঃ গ্রাঃ/কেজি, আর প্রতি কেজি পুরম্নষ মাছের জন্য পি.জি. দিতে হবে ২ থেকে ৩ মিঃ গ্রাঃ। ইনঞ্জেকশন দিতে হবে মুখের কাছে পাখনার নীচে ফুলার অংশে। পি. জি. দেয়ার পর স্ত্রী ও পুরম্নষ মাছকে সমান অনুপাতে অর্থাৎ ১ : ১ অনুপাতে প্রজনন ট্যাংকে রেখে তারপর পানির স্রোতসহ ঝর্ণার ব্যবস্থা করতে হবে। ইনঞ্জেকশন দেয়ার ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর মাছ ডিম দিতে শুরম্ন করবে। ডিম ছাড়ার পর ডিমগুলোকে হ্যাচিং ট্যাংকে নিয়ে যেতে হবে। কৈ মাছের ডিমগুলো ভেসে থাকে। সে জন্য ডিমগুলোকে বিশেষ কায়দায় হ্যাচিং ট্যাংকে নিয়ে যেতে হবে। কৈ মাছের ডিম ভাসমান বিধায় আমি এক বিশেষ পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহের কথা উলেস্নখ করছি যা আমাদের দেশে প্রথম। ডিম সংগ্রহের সময় সর্তকতার অভাবে অনেক ডিম নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে প্রজনন ট্যাংক থেকে হ্যাচিং ট্যাংক পর্যনত্ম ৩ থেকে ৪টি সিরিজ ট্যাংক পাশাপাশি রাখতে হবে। প্রজনন ট্যাংক থেকে প্রতিটি ট্যাংকের বর্হিগমন নালা ২ ইঞ্চি নীচু হতে হবে। তাতে ডিমগুলো আপনা আপনি প্রজনন ট্যাংক থেকে হ্যাচিং ট্যাংকে এসে জমা হবে। নিষিক্ত ডিম এরেটরের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ ও পানি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। তাপমাত্রা ভেদে ১৮/২০ ঘণ্টার মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবে। এরপর ২ থেকে ৩ দিন হ্যাচিং ট্যাংকে রাখার পর রেনু পোনাকে সিদ্ধ ডিমের কুসুম ভাল করে বেস্নন্ডার করে তারপর ছেঁকে খাবার হিসাবে দিতে হবে। এভাবে ক'দিন খাওয়ানোর পর নার্সারি পুকুরে স্থানানত্মর করতে হবে। (চলবে)
_এ. কে. এম নূরম্নল হক
ব্রহ্মপুত্র ফিস সিড কমপেস্নক্স (হ্যাচারি) ময়মনসিংহ